কিভাবে হিমবাহের উৎপত্তি হয়? যে ভূমির উপর দিয়ে এটি প্রবাহিত হয় তার উপর এর প্রভাব বর্ণনা কর। Glacier originated? মহাদেশীয় হিমবাহ এবং উপত্যকা হিমবাহ কি?
পৃথিবীর অধিক শীতল স্থানগুলিতেই বরফ জমিয়া থাকে। মেরু-প্রদেশগুলিতে এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশের উচ্চ-স্থানগুলিতে শীতকালে বরফ জমে। যে সব উচ্চস্থানগুলিতে বরফ জমে, তাহাদের প্রত্যেকের এক একটি নির্দিষ্ট সীমারেখার নীচে গ্রীষ্মকালে বরফ গলিয়া যায় এবং উপরের বরফ একইভাবে থাকে। এইরূপ সীমারেখাকেই বলে হিমরেখা (Snow-line)। এই হিমরেখা সর্বত্র সমান নহে, কোথাও ৩০০০ ফুট উচ্চে (ল্যাপল্যাণ্ড) আবার কোথাও ১৬০০০ ফুট উচ্চে (হিমালয় পর্বত)।
হিমরেখার উপর অবিরত তুষার সঞ্চিত হইতে হইতে উপরের চাপে নিম্নস্তরের তুষার জমিয়া কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার একই অবস্থায় অর্থাৎ উপরের অধিক চাপে নীচের বরফ কিছুটা গলিয়াও যায়। এইভাবে নীচের অংশ ক্রমশঃ পিচ্ছিল হওয়াতে কঠিন বরফের স্তূপ ধীরে ধীরে নীচে নামিতে থাকে। অবশ্য এই চ্যুতি অতীব মন্থর, বৎসরে কয়েক গজ মাত্র। বরফের এই নিম্নাবতরণকেই বলে হিমবাহ (Glacier)।
হিমবাহও পৃথিবীর অনেক ক্ষয়সাধন করিয়া থাকে। বৈজ্ঞানিকদের মতে প্রাচীনকালে ইউরোপের উত্তরদিক ও উত্তর আমেরিকার বহুলাংশ জুড়িয়া বরফাবৃত ছিল। বর্তমানকালেও মেরুপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বরফাচ্ছন্ন আছে। এইসব অঞ্চলকে মহাদেশীয় হিমবাহ (Continental Glaciers) বলে। এই মহাদেশীয় হিমবাহ অঞ্চলে প্রাচীনকালে প্রচুর ক্ষয়কার্য সাধিত হইয়াছে। হিমবাহ উপর হইতে নীচে নামিয়া আসার ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হইয়াছে এবং এইসব গর্তে কালক্রমে জল জমিয়া জমিয়া বিশালায়তন হ্রদের সৃষ্টি হইয়াছে। ইউরোপের লাডোগা, ওনেগা; উঃ আমেরিকার আথাবাস্কা, উইনিপেগ ইত্যাদি হ্রদ হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলেই সৃষ্ট হইয়াছে। তুন্দ্রা অঞ্চলেও অশেষ ক্ষয় সাধিত হইতেছে। তবে হিমবাহের বিলুপ্তি সাধিত না হইলে ক্ষয়কার্যের পরিমাণ বা প্রকৃতি জানা যাইবে না।
পার্বত্য অঞ্চলে যে সব হিমবাহ দেখা যায়, তাহাকে বলে উপত্যকা হিমবাহু (Valley Glaciers)। এইরূপ হিমবাহ গতি-পরিবর্তন না করা পর্যন্ত উহাদের ক্ষয়ের পরিমাণ জানা যায় না।
