Give an account of the Monsoon type of climate. মৌসুমী জলবায়ুর বিবরণ দাও।
আঞ্চলিক বিবরণ-১০° হইতে ৩০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ মৌসুমী জলবায়ুর অঞ্চল। কিন্তু ইহা মহাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত। এসিয়ায় ভারতবর্ষ, পাকিস্তান, শ্যাম, ব্রহ্মদেশ, ইন্দোচীন, দক্ষিণ চীন, ফিলিপাইন দ্বীপপুঞ্জ, আফ্রিকায়, পূর্ব আফ্রিকার ভীরভূমি, মাদাগাস্কার আবিসিনিয়ার পূর্বাংশ; উত্তর আমেরিকায় মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের তীর, পশ্চিম-ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ; দক্ষিণ আমেরিকায়- ব্রাজিলের পূর্বতীরের অংশ; অস্ট্রেলিয়ায়-কুইন্সল্যান্ড ও উত্তর টেরিটরির তীরभूमि ও দক্ষিণ নিউগিনি এই জলবায়ুর দেশ।
জলবায়ু: আরবী 'মৌসুম' শব্দের অর্থ ঋতু। স্থানীয় কারণে বিশেষ বিশেষ ঋতুতে নিয়ত বায়ুর গতি পরিবর্তিত হইয়া মৌসুমী বায়ুর সৃষ্টি হয়। মৌসুমী বায়ুকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, গ্রীষ্মের মৌসুমী ও শীতের মৌসুমী। গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ অধিক উত্তপ্ত হয় বলিয়া稳定的 সমুদ্র হইতে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়া বহিয়া যায় এবং সেখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। আবার শীতকালে উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ অধিক শীতল হয় বলিয়া স্থলভাগ হইতে দক্ষিণদিকে শীতল শুষ্ক বায়ু প্রবাহিত হয়। সুতরাং মৌসুমী বায়ুর বিশেষত্ব এই যে গ্রীষ্মকালে উত্তর গোলার্ধের অঞ্চলসমূহ উষ্ণ ও আর্দ্র এবং শীতকালে শুষ্ক এবং শীত ও গ্রীষ্মের উত্তাপের প্রসর ৩০° ডিগ্রীর মত। দক্ষিণ গোলার্ধের মৌসুমী অঞ্চলসমূহ উত্তর গোলার্ধে যখন শীতকাল তখন উষ্ণ ও আর্দ্র থাকে। কারণ তখন সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে সরিয়া যায় বলিয়া সেখানে তখন গ্রীষ্মকাল। প্রকৃত মৌসুমী অঞ্চল বলিতে কিন্তু ভারত যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান, শ্যাম, ব্রহ্মদেশ, ইন্দোচীন ইত্যাদি রাষ্ট্রকেই বুঝায়।
উদ্ভিজ্জ সংস্থান: উচ্চতা ও বৃষ্টিপাত বেশী বলিয়া এখানেও বনের সৃষ্টি হইয়াছে। তবে এখানে পর্ণমোচী (deciduous) বৃক্ষের বনেরই প্রাধান্য। শীতকালে ইহাদের পাতা ঝরিয়া যায়। শাল, সেগুন, বাঁশ, আম, কাঁঠাল, গর্জন, শিশু, বট, মহুয়া, প্রভৃতি প্রশস্ত বৃক্ষের বন এখানে অধিক পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়। উচ্চতা অনুসারে যে সব অঞ্চল শীতপ্রধান, সেখানে বার্চ, ওক, বীচ, পাইন, মেপ্ল প্রভৃতি সরলবর্গীয় বৃক্ষের বনও দেখা যায়। ভারতের হিমালয়ের পাদদেশে সিঙ্কোনা প্রভৃতি মূল্যবান ওষুধের গাছ, তরাই অঞ্চলে স্যাবাই ঘাস ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
মৌসুমী অঞ্চলের ঘন বন регионе হিংস্র জন্তু এবং তৃণভোজী প্রাণী পাশাপাশি বাস করে। উষ্ণতা ও আর্দ্রতার আধিক্য হেতু এবং সমতলভূমির প্রাচুর্য থাকায় এই অঞ্চল কৃষিসম্পদে অত্যন্ত উন্নত। ধান, গম, যব, ইক্ষু, তৈলবীজ, পাট, tামাক, চা, কফি, কলা, আনারস, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি নানাপ্রকার শাকসবজি ও ফল এখানকার প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। মৌসুমী অঞ্চলে খনিজ পদার্থও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কিন্তু বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধক থাকার দরুন এতদিন পর্যন্ত এই খনিজ সম্পদকে অবলম্বন করিয়া কোন প্রকার শিল্পায়ন সম্ভব হয় নাই। বর্তমানকালে এই সব অঞ্চলে শিল্পদ্রব্যের প্রভূত উন্নতি সাধিত হইতেছে।


