Describe the physical features of Asia. এশিয়ার ভূ-প্রকৃতি বর্ণনা করো।
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে এশিয়াকে মোটামুটি ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়:
(১) উত্তরের বিশাল সমভূমি: উত্তরে উত্তর সাগর, দক্ষিণে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ সীমা, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর ও পশ্চিমে ইউরোপের পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বিশাল সমতল নিম্নভূমি। ইহা পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত। এই সমতলভূমি দক্ষিণ হইতে উত্তরে ঢালু হইয়া গিয়াছে। এইজন্যই ওবি, লেনা, ইয়েনিসি প্রভৃতি নদীগুলি উত্তরবাহিনী। ইহার অধিকাংশ এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত। ইহার উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলকে সাইবেরিয়ার সমভূমি বলা হয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সমতলভূমিকে তুরানের নিম্নভূমি বলে।
(২) মধ্যভাগের উচ্চভূমি অঞ্চল: এ এশিয়ার মধ্যভাগে অবস্থিত এই পার্বত্যভূমি এ এশিয়ার প্রায় এক বৃহৎ অংশ জুড়িয়া অবস্থিত। ইহা গড়ে প্রায় ৫০০০ ফুট উচ্চ। এই পার্বত্যভূমিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়; যথা—(১) পামির গ্রন্থি হইতে বিস্তৃত পর্বতমালা এবং (২) আর্মেনীয় গ্রন্থি হইতে বিস্তৃত পর্বতমালা।
পামির গ্রন্থি হইতে পূর্বদিকে হিমালয়, কারাকোরাম, কুয়েনলুন ও আলতিন তাগ, উত্তর-পূর্বে টিয়েনসান, পশ্চিমে হিন্দুকুশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে সুলেমান পর্বতশ্রেণি বাহির হইয়াছে। কাশ্মীরের উত্তর-পশ্চিমে পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা উচ্চ পামির মালভূমি অবস্থিত। ইহার উচ্চতা ১৬,০০০ ফুট; এইজন্য ইহাকে 'পৃথিবীর ছাদ' (Roof of the world) বলা হয়।
আর্মেনীয় পর্বতগ্রন্থি হইতে পূর্বদিকে এলবুর্জ এবং জ্যাগ্রোস পর্বতমালা বিস্তৃত হইয়াছে। এই পর্বতদুটি আর্মেনীয় গ্রন্থির ভিতর দিয়া পশ্চিমে বিস্তৃত হইয়াছে। উত্তরদিকের পর্বতশ্রেণীর নাম পন্টিক এবং দক্ষিণদিকের পর্বতশ্রেণীর নাম টরাস। হিন্দুকুশের এক শাখা উত্তর-পশ্চিমে ককেশাস পর্বত নামে খ্যাত।
(৩) দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চল: দক্ষিণদিকে সুস্পষ্ট তিনটি মালভূমি দেখা যায়; যথা—(১) আরবের মালভূমি, (২) দাক্ষিণাত্য মালভূমি এবং (৩) ইন্দোচীন মালভূমি। আরব মালভূমি ও দাক্ষিণাত্য মালভূমি উভয়ই প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত এবং উভয়েই পূর্বদিকে ঢালু। দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বত, পূর্বে পূর্বঘাট পর্বত ও উত্তরে বিন্ধ্য পর্বত অবস্থিত। ইন্দোচীন মালভূমিও পূর্বদিকে ক্রমশ ঢালু হইয়া গিয়াছে।
(৪) দক্ষিণ ও পূর্বের নদী-বিধৌত সমতলভূমি: এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে ও পূর্বে নদী-বিধৌত নিম্ন সমতলভূমি অবস্থিত। আরব ও ইরানে ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদী-বিধৌত ইরাকের অববাহিকা, ভারত ও পাকিস্তানে গঙ্গা, সিন্ধু ও ব্রহ্মপুত্র-বিধৌত সিন্ধু-গাঙ্গেয় সমতলভূমি। ব্রহ্মদেশে ইরাবতী নদী অববাহিকার সমভূমি এবং ইন্দোচীনের মেনাম নদী অববাহিকার সমভূমি উল্লেখযোগ্য।
(৫) পূর্ব ও দক্ষিণের দ্বীপমালা: এ এশিয়ার পূর্ব ও দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরে অসংখ্য দ্বীপমালা ছড়িয়া আছে, যেগুলির মধ্যে কয়েকটি আগ্নেয়গিরিজাত এবং কয়েকটি প্রবাল দ্বীপ।
(৬) উত্তর-পূর্বের উচ্চভূমি: এই উচ্চভূমি এশিয়ার মধ্যস্থলের পর্বতমালা হইতে উত্তর-পূর্ব দিকে এশিয়ার প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
