different types of climate prevalent in Asia? এশিয়া মহাদেশে কী কী জলবায়ু দেখিতে পাওয়া যায়? এশিয়াকে কয়টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?

different types of climate prevalent in Asia? এশিয়া মহাদেশে কী কী জলবায়ু দেখিতে পাওয়া যায়? এশিয়াকে কয়টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?

different types of climate prevalent in Asia? এশিয়া মহাদেশে কী কী জলবায়ু দেখিতে পাওয়া যায়? এশিয়াকে কয়টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?

different types of climate prevalent in Asia? এশিয়া মহাদেশে কী কী জলবায়ু দেখিতে পাওয়া যায়? এশিয়াকে কয়টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়?

এশিয়া মহাদেশ নিরক্ষরেখা হইতে উত্তর মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত। অধিকন্তু পর্বতাদির অবস্থান, সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহ ইত্যাদির জন্য এই মহাদেশের জলবায়ুর মধ্যে অত্যন্ত পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। মোটামুটিভাবে বলা যাইতে পারে যে পৃথিবীর সবরকম জলবায়ুই এই মহাদেশে দেখা যায়। নিরক্ষরেখা হইতে আলোচনা আরম্ভ করিলে আমরা ক্রমান্বয়ে নিম্নলিখিত অঞ্চলগুলি দেখিতে পাই।

(১) নিরক্ষীয় অঞ্চল: এশিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশের দ্বীপগুলি নিরক্ষীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সারাবৎসর প্রচুর বৃষ্টিপাত (পরিচলন বৃষ্টি), প্রচণ্ড উত্তাপ এই জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য। এখানে শীতকাল নাই। এই অঞ্চলে চিরহরিৎ (Evergreen) বন পরিদৃষ্ট হয়। রবার, ইক্ষু, চা, ধান, নানাপ্রকারের মসলা ও ফলমূল এখানকার উৎপন্ন দ্রব্য। হাতি, বাঘ, সাপ, বানর ও সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীরা এখানে বাস করে।

(২) মৌসুমী অঞ্চল: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ—ভারত, পাকিস্তান, ব্রহ্মদেশ ও দক্ষিণ চীন প্রভৃতি দেশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এখানে বৃষ্টিপাত প্রচুর। তবে ছয়মাস শুষ্ককাল। গ্রীষ্মকালে উত্তাপ প্রখর। শীতকালে মৃদু উত্তাপ। মৌসুমী অঞ্চলের পর্ণমোচী গাছের বন এই অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য। শাল, সেগুন, শিশুপাঠা, গর্জন, অর্জুন প্রভৃতি বৃক্ষের বন এখানে উল্লেখযোগ্য। আম, জাম, কাঁঠাল, কলা, আনারস ইত্যাদি ফল এখানে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ধান, ইক্ষু, চা ও তামাক এখানকার প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য এবং বৃষ্টিপাত ও উত্তাপ-ভেদে গম, ভুট্টা, তুলা ইত্যাদিও জন্মিয়া থাকে। এখানকার জঙ্গলে হাতি, বাঘ, সিংহ প্রভৃতি হিংস্র জন্তু বাস করে।

(৩) মরু অঞ্চল: দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় ভারত ও আরবের উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চল। এখানে উত্তাপের প্রসর অত্যন্ত বেশি। দিনে উত্তাপ অত্যন্ত বেশি ও রাত্রিতে উত্তাপ অত্যন্ত কম। বৃষ্টিপাতও খুব অল্প। কাজেই এখানে কৃষিকাজ হয় না। এখানে বাবলা জাতীয় মরু অঞ্চলের গাছ জন্মে। মাঝে মাঝে মরূদ্যানগুলিতে কিছু কিছু কৃষিকাজ হইয়া থাকে। এখানে ভেড়া, ছাগল, উট প্রভৃতি পশুপালন হইয়া থাকে।

(৪) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল: এশিয়ার পশ্চিম প্রান্তীয় অঞ্চল—তুরস্ক হইতে ইরাক পর্যন্ত—এই জলবায়ুর অন্তর্গত। এখানে উত্তাপ মৃদু। বৃষ্টিপাত শীতকালেই হইয়া থাকে। গ্রীষ্মকাল শুষ্ক। এখানে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ফসল—গম ও যব ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে জন্মে। শীতকালে আঙুর, কমলালেবু, জলপাই, ডুমুর প্রভৃতি ফল পাওয়া যায়।

(৫) স্টেপস্ বা তৃণভূমি: এশিয়ার অন্তর্গত সোভিয়েত রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল এই জলবায়ুর অঞ্চল। এখানে বৃষ্টিপাত অল্প, উত্তাপ মৃদু। তাই এখানে বৃক্ষহীন তৃণভূমি। এই অঞ্চল কৃষিকার্যে বিশেষ উন্নত। গম এখানকার প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। আলু, বীট, যব ইত্যাদি ফসলও এখানে পাওয়া যায়; মেষপালন ও গোপালনও এখানে হইয়া থাকে।

(৬) নাতিশীতোষ্ণ মরু অঞ্চল: মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমি এবং আফগানিস্তানের কতক অংশ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এই মরু অঞ্চলে কৃষিকাজ হয় না। তবে স্থানে স্থানে গরু, মেষ, ছাগল, অশ্ব প্রভৃতি পালন করা হইয়া থাকে।

(৭) তুন্দ্রা অঞ্চল: এশিয়ার উত্তরাংশে সারা অঞ্চল বরফাবৃত। এখানে কৃষিকাজ হয় না। এখানে গুল্ম ও শৈবালজাতীয় গাছ জন্মে। বল্লা হরিণ, শ্বেত ভল্লুক, সীল, সিন্ধুঘোটক প্রভৃতি প্রাণী এখানে বাস করে।

(৮) চীনদেশীয় জলবায়ু: ইহা প্রায় মৌসুমী জলবায়ুর মতো। চীনদেশের উত্তর-পূর্বে ও পূর্বে এই জলবায়ু দেখিতে পাওয়া যায়। মৌসুমী অঞ্চলের ফসল ধান, ইক্ষু ইত্যাদি এখানে পাওয়া যায়। এখানকার বন মৌসুমী অঞ্চলের পর্ণমোচী বৃক্ষের বন।

আপনি চাইলে এগুলো পড়তে পারেন

About the author

Irisha Tania
"আমি সেই মেয়ে, যে শব্দে বাঁচে। কলম আমার অস্ত্র, আর কাগজ আমার স্বপ্নের আকাশ। প্রতিটি অনুভব, প্রতিটি চিন্তা আমি সাজিয়ে রাখি অক্ষরের গাঁথুনিতে। কখনো গল্পে, কখনো কবিতায়, আবার কখনো নিঃশব্দের ভেতরে। আমি লিখি, কারণ লেখার মাঝে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। …

Post a Comment