Geographical account of Burma. ব্রহ্মদেশের ভৌগোলিক বিবরণ দাও।
আয়তন ও সীমা: ব্রহ্মদেশের আয়তন ২ লক্ষ ৬২ হাজার বর্গমাইল এবং লোকসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ। এই দেশের উত্তরে চীন, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে শ্যামদেশ ও চীন; পশ্চিমে ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান। লোকসংখ্যার অধিকাংশ বৌদ্ধধর্মাবলম্বী।
ভূ-প্রকৃতি: ব্রহ্মদেশের উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত পর্বতগুলি প্রকৃতপক্ষে হিমালয় হইতে নির্গত। এই পর্বতগুলির মধ্যে মধ্যে আছে নদী-উপত্যকা। সমস্ত দেশের ভূ-প্রকৃতিই এইরূপ। আরাকান, পেগুয়োমা ও টেনাসেরিময়োমা ব্রহ্মদেশের পশ্চিম হইতে ক্রমশ স্তরে স্তরে অবস্থিত। পাটকই, নাগাপাহাড় উত্তর-পশ্চিম ব্রহ্মদেশ ও আসামের সীমা নির্দেশ করে। এই দেশের পূর্বে শান মালভূমি এবং দক্ষিণে টেনাসেরিম মালভূমি। এই সকল পর্বত ও মালভূমির মধ্যে যে সকল সমভূমি রহিয়াছে, সেইখানেই ইরাবতী, সালুইন ও সিটাং—এই তিনটি প্রধান নদী দেখা যায়।
জলবায়ু: উত্তরাংশ ছাড়া আর সব জায়গাতেই মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত। মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে উপকূলভাগে খুব বৃষ্টি হয়। পর্বতগুলি খুব বেশি উঁচু নয় বলিয়া এই মৌসুমী বায়ু দেশের অভ্যন্তরেও প্রবেশ করে এবং বৃষ্টিপাত ঘটায়। উত্তর-পূর্বের পার্বত্য অঞ্চল শুষ্ক। দক্ষিণের জলবায়ুও উষ্ণ এবং আর্দ্র।
উৎপন্ন দ্রব্য: ধান এখানকার সর্বশ্রেষ্ঠ উৎপন্ন দ্রব্য। ইরাবতীর ব-দ্বীপ অঞ্চলেই ইহা প্রচুর জন্মে। ইহা ছাড়া ইক্ষু, রবার, তামাক, তুলা, ডাল ইত্যাদিও জন্মে। সেগুন কাঠের জন্য ব্রহ্মদেশ বিখ্যাত।
খনিজ দ্রব্য: টিন, রৌপ্য, তাম্র, সীসা, দস্তা, টাংস্টেন, উলফ্রাম প্রভৃতি মূল্যবান খনিজ পদার্থ এখানে পাওয়া যায়। এতদ্ব্যতীত এখানে ইরাবতী অববাহিকার উত্তরে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তৈল পাওয়া যায়।
নগরাদি: রেঙ্গুন ব্রহ্মদেশের রাজধানী ও প্রধান বন্দর। বেসিন ইরাবতীর ব-দ্বীপে অবস্থিত এক বন্দর। আকিয়াব, মৌলমিন, মান্দালয় ও ভামো চীন ও ব্রহ্ম সীমান্তের উন্নত বন্দর ও বাণিজ্যকেন্দ্র (মান্দালয় পুরাতন রাজধানী)।
