Describe the rivers of Asia এশিয়ার নদীগুলির বিবরণ দাও। পর্বতের জন্য ইহাদের গতি কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হইয়াছে বল।
এশিয়ার মধ্যভাগের পার্বত্য অঞ্চল এই মহাদেশের প্রধান জলবিভাজিকা। এশিয়ার প্রায় সকল নদীই এই পর্বতাঞ্চল হইতে নির্গত হইয়া বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হইয়াছে, এবং মাত্র কয়েকটি ছাড়া প্রায় সবগুলিই সাগরে পতিত হইয়াছে। পর্বতের উচ্চতা ও অবস্থানের উপর নির্ভর করিয়া নদীগুলির উৎপত্তি ও গতিপথ নির্ধারিত হইয়াছে। নদীগুলির উৎপত্তি ও গতি হিসাবে ইহাদিগকে নিম্নলিখিত ভাগে ভাগ করা যাইতে পারে:
উত্তর-বাহিনী নদী (ওবি, ইয়েনিসি ও লেনা): এই তিনটি প্রধান নদী উত্তর সাগরে প্রবাহিত হইতেছে। নদী তিনটি আকারে দীর্ঘ হইলেও ইহাদের মোহনা প্রায় সর্বদাই বরফাবৃত থাকে। আবার মধ্য এশিয়ার পর্বতগুলি হইতে জল নামিয়া নদীসমূহের নিম্নভাগে বন্যা হয়; সুতরাং ইহাদের উপযোগিতা তেমন নাই।
পূর্ব-বাহিনী নদী: পূর্ব-বাহিনী নদীর মধ্যে ইয়ারোনাউ পর্বত হইতে উৎপন্ন আমুর, সোভিয়েত রাশিয়ার পূর্ব-দক্ষিণ অঞ্চল দিয়া প্রবাহিত হইয়া সখালিন দ্বীপের নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে পড়িয়াছে। ইহার মোহনাও বৎসরের বহুদিন পর্যন্ত বরফাচ্ছন্ন থাকে। কুয়েনলুন পর্বত হইতে উৎপন্ন হোয়াংহো নদী চীনদেশের উত্তরদিকে পূর্বমুখে বহিয়া গিয়া পেচিলি উপসাগরে পড়িতেছে। এই নদীগর্ভ পীত রঙের 'লোয়েশ' (Loess) মৃত্তিকা দ্বারা গঠিত। এইজন্য ইহাকে পীত নদী বলে। সময় সময় এই নদীতে এত প্রবল বন্যা হয় যে ইহাতে চীনের ওই অংশের ভয়ানক ক্ষতি সাধিত হয়। এইজন্য ইহাকে 'চীনের দুঃখ' (China's sorrow) বলে। কুয়েনলুন পর্বতের দক্ষিণ হইতে উৎপন্ন এশিয়ার দীর্ঘতম নদী ইয়াংসিকিয়াং চীনের মধ্যভাগ দিয়া পূর্বদিকে চীনসাগরে পড়িতেছে। এই নদী-উপত্যকা কৃষিকার্য ও যাতায়াত-ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ এবং ইহা দেশের অভ্যন্তরে অনেকদূর নাব্য। ইউনান মালভূমি হইতে উৎপন্ন সিকিয়াং নদী চীনদেশের দক্ষিণদিক দিয়া চীনসাগরে পতিত হইতেছে। ইহার মোহনায় ক্যান্টন বন্দর অবস্থিত বলিয়া ইহার অপর নাম ক্যান্টন নদী। ইহার অববাহিকাও কৃষিসমৃদ্ধ।
দক্ষিণ-বাহিনী নদী: এশিয়ার নদীগুলির মধ্যে দক্ষিণ-বাহিনী নদীগুলিই শ্রেষ্ঠ। ইহারা বহুদূর পর্যন্ত নাব্য এবং ইহাদের অববাহিকাও অত্যন্ত উর্বর। টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস আর্মেনীয় মালভূমি হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। পরে ইহাদের মিলিত স্রোত শাত-আল-আরব নামে পারস্য উপসাগরে পড়িয়াছে। সিন্ধু, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র হিমালয় পর্বত হইতে উৎপন্ন হইয়াছে। সিন্ধু নদী পশ্চিম পাকিস্তানের ভিতর দিয়া আরব সাগরে পড়িয়াছে। গঙ্গা নদী উত্তর ভারতের মধ্য দিয়া পূর্বদিকে বহিয়া আসিয়া ব্রহ্মপুত্রের সহিত মিলিত হইয়াছে। পরে এই মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে পড়িতেছে। ব্রহ্মদেশের শান মালভূমি হইতে মেনাম নদী উৎপন্ন হইয়া শ্যাম উপসাগরে পড়িতেছে। ইউনান মালভূমি হইতে উৎপন্ন সালুইন ও ইরাবতী নদী ব্রহ্মদেশের উপর দিয়া মার্তাবান উপসাগরে পড়িতেছে। কুয়েনলুন হইতে উৎপন্ন হইয়া মেকং শ্যামদেশের ভিতর দিয়া আসিয়া চীনসাগরে পড়িতেছে।
অন্তর্বাহিনী নদী: ইউরাল নদী ইউরাল পর্বত হইতে উৎপন্ন হইয়া কাস্পিয়ান সাগরে পড়িতেছে। টিয়েনসান পর্বত হইতে উৎপন্ন হইয়া সিরদরিয়া এবং হিন্দুকুশের নিকট হইতে উৎপন্ন হইয়া আমুদরিয়া নদী আরল সাগরে পড়িতেছে। তারিম, হরমন্দ ও জর্ডন নদীও অনুরূপভাবে অন্তর্বাহিনী। পর্বতের ভূপ্রকৃতির জনেই এই নদীগুলি কোনো সাগরে বা মহাসাগরে না গিয়া অভ্যন্তরীণ হ্রদ বা মরুভূমিতে মিলিয়াছে।
![Describe the rivers of Asia. Explain how their courses are controlled by the mountains. [এশিয়ার নদীগুলির বিবরণ দাও। পর্বতের জন্য ইহাদের গতি কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হইয়াছে বল।] Describe the rivers of Asia. Explain how their courses are controlled by the mountains. [এশিয়ার নদীগুলির বিবরণ দাও। পর্বতের জন্য ইহাদের গতি কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হইয়াছে বল।]](https://blogger.googleusercontent.com/img/b/R29vZ2xl/AVvXsEgapJD3YjJMR9tMa6U49pSzb1Ow22wi4qwz3vFNgnwZn6ca8J0FUW7no9yyuiiCDnCOZQViZDitIjGT4jOyguW4dGtHpTCtiRlXmV_Sw6KqhMK5k2RAE-g5D5N2hJe4QXGlwr1O12fEIUKwO15lMeg2-h8eQSadZsRdU4QtWbr1MWxptNN-zSVAcRN2Y0U/w640-h361-rw/1000048767.webp)